মাদক-জুয়াকে অপরাধের বড় উৎস বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। অপরাধ দমনে শুধু অপরাধীকে শাস্তি দিলেই হবে না, অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় গুরুত্ব দিতে হবে।
বুধবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সময়ের সাথে অপরাধের ধরনও বদলেছে। প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে অপরাধ এখন অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল ও আধুনিক রূপ নিয়েছে। ফলে অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর আইনকাঠামোর পাশাপাশি গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাও গুরুত্বপূর্ণ।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ, অপরাধী, অপরাধবিজ্ঞান, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এ ক্ষেত্রে ক্রাইম রিপোর্টারদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি অপরাধের কারণ ও প্রবণতা বুঝতেও সহায়ক। তার ভাষ্য, দীর্ঘ ৪৩ বছরের পথচলায় ৩১৮ সদস্যের ক্র্যাব অপরাধবিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
অপরাধের শিকড় চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো অপরাধকে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ বিশ্লেষণ করে অপরাধের পেছনের সামাজিক ও অন্যান্য কারণ খুঁজে বের করতে হবে। তার মতে, মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অপরাধের প্রবণতা কমানোর ক্ষেত্রে তা ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্রাইম রিপোর্টারদের পেশাগত ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনকালে কোনো সাংবাদিক আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সিএসআর ফান্ডসহ সম্ভাব্য অন্যান্য মাধ্যমে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পেশাগত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা আইনগতভাবে পর্যালোচনার কথাও বলেন।
গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে পালন করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতাও এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন।
অ্যাসিড সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে অতীতে নেয়া পদক্ষেপের উদাহরণ দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কঠোর আইন, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামাজিক সচেতনতার সম্মিলিত উদ্যোগে দেশে অ্যাসিড-সংক্রান্ত অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইভাবে মাদক, অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ মোকাবিলায় রাষ্ট্র, সমাজ ও সাংবাদিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনলাইন জুয়া ও নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় আইন আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুরোনো আইন দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন। এ কারণে ১৮৬৭ সালের গ্যাম্বলিং অ্যাক্টের পরিবর্তে ডিজিটাল স্পেসে অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। একই বছর ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ও করা হয়েছে। সরকারি নথিতে দুটি আইনই ২০২৬ সালে প্রণীত আইনের তালিকায় রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)