Logo
×

Follow Us

জাতীয়

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১৫০ কূপ খননের উদ্যোগ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১৫০ কূপ খননের উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন করে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। একই সাথে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুই টার্মিনালের পাশাপাশি আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৫০টি নতুন কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হবে। এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি। এ প্রকল্পে এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মতবিনিময়ের প্রসঙ্গ তুলে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস সরবরাহের সংকট দ্রুত নিরসনে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর গ্যাসের প্রবাহ বেড়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডিজেলের দাম তুলনামূলকভাবে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার এ খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিচ্ছে বলেও জানান মাহদী আমিন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করায় মুডিস রেটিংসের সিদ্ধান্তকে দেশের জন্য ইতিবাচক সংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এর ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান এবং কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। একই সাথে খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন দ্রব্যের দাম বাড়ার গতিও আগের তুলনায় কমেছে।

সরকারের জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রমের বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি, জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রগতি, সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এবং বৈদেশিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও গত ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি আরো বলেন, ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবছর ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ওমানের শ্রমবাজারে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন সার উদ্বৃত্ত রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে দেশ পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে। তবে মাত্র সাত মাসে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ২১২ দিনের মধ্যে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে। তবে কিছু কর্মসূচির পূর্ণ ফল পেতে আরো সময় প্রয়োজন হবে। গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, জনজীবনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার সহযোগিতা করবে।

মন্তব্য করুন