Logo
×

Follow Us

জাতীয়

সাত মাসে বাকস্বাধীনতা সর্বোচ্চে: মাহ্দী আমিন

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

সাত মাসে বাকস্বাধীনতা সর্বোচ্চে: মাহ্দী আমিন

সংগৃহীত ছবি

নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সাত মাসে দেশে নাগরিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তাঁর ভাষ্য, এ সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক নিপীড়নের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে তৈরি হওয়া নানা সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে ভিন্নমত দমন বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনো নীতি অনুসরণ করছে না। স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন কোনো অনিয়ম বা প্রশাসনিক ভুল হলে তা দ্রুত তদন্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়। অতীতে অনিয়ম বা অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে আইন অনুযায়ী প্রতিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম পরিবর্তন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, এটি কোনো একক রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। শিক্ষার্থী, শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, সেই চেতনাকে ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন তিনি।

আইন প্রণয়নে অংশীজনদের মতামতের বিষয়ে মাহ্দী আমিন জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শতাধিক অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। নতুন আইন তৈরির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে। আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে সংশোধনের সুযোগ রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো আইনকে জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা। আইনের ভাষার পাশাপাশি এর মানবিক ব্যাখ্যা ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণতন্ত্রের সংজ্ঞা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, শুধু পাঁচ বছর পরপর ভোট দেওয়াই গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ মানদণ্ড নয়; নির্বাচনের পর জনগণের প্রত্যাশা রাষ্ট্র পরিচালনায় কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তার দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশে মতপ্রকাশের সুযোগ বেড়েছে এবং বিভিন্ন সমালোচনা ও বিরূপ আচরণের ক্ষেত্রেও সরকার সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখাচ্ছে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে জনগণ, গণতন্ত্র ও দেশের সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, বাকশাল, সামরিক শাসন ও দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পর বিভিন্ন সময়ে বিএনপির নেতৃত্বে দেশে গণতান্ত্রিক ধারার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আবার গণতান্ত্রিক পথে ফিরেছে।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণের প্রতি পূর্ণ দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই সরকার পরিচালনার অঙ্গীকার রয়েছে। তরুণ ও নারী সমাজ, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতকে দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি তাদের আস্থা বারবার প্রমাণ করেছে। বর্তমান সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় বাস্তবায়নে কাজ করছে। একই সাথে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে টিআইবিসহ নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোকেও তথ্য-উপাত্তভিত্তিক গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারাসহ শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা অংশ নেন।

মন্তব্য করুন