Logo
×

Follow Us

জাতীয়

বিমসটেকে উত্তেজনা নয়, সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান: হুমায়ুন কবির

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম

বিমসটেকে উত্তেজনা নয়, সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান: হুমায়ুন কবির

সংগৃহীত ছবি

বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা এড়িয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, কার্যকর আঞ্চলিক জোট হিসেবে বিমসটেককে এগিয়ে নিতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অভিন্ন লক্ষ্য বজায় রাখা জরুরি।

সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে বিমসটেক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে ও তার স্ত্রী সুষমা পান্ডে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এতে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিপক্ষীয় মতবিরোধকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সহযোগিতা থামিয়ে রাখা যাবে না। কঠিন পরিস্থিতি ও মতপার্থক্য মোকাবিলায় রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশ বিমসটেকের সব সদস্য দেশ ও সচিবালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে সহযোগিতার বিভিন্ন উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চায়।

২০২৭ সালে ঢাকায় পরবর্তী বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্মেলন হবে গত অগ্রগতি পর্যালোচনা, নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং অভিন্ন আঞ্চলিক কর্মসূচিতে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আরও শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরির পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি, অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে বিমসটেক পরিণত হতে পারে। ১২ বছর আগে ঢাকায় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জোটটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিমসটেকের সাত সদস্য দেশ—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড—বিপুল জনসংখ্যা, সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে আঞ্চলিক সমৃদ্ধিতে রূপ দেয়াই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহব্যবস্থার সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও মানবিক সংকট কোনো দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংগঠনটিকে আরো কার্যকর, দৃশ্যমান, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনগণকেন্দ্রিক করার অঙ্গীকার করেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, উন্নয়ন এবং বিশেষ করে সুনীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য এলাকা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

বঙ্গোপসাগরকে আঞ্চলিক অভিন্ন সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, মৎস্যসম্পদ, নৌপথ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, পর্যটন ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় উৎস হতে পারে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যোগাযোগব্যবস্থাকে বিমসটেকের উদ্যোগের কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদ, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, মানবপাচার, মাদক, সাইবার নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ ছাড়া পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব বিনিময়, পেশাজীবী নেটওয়ার্ক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবন ও বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন হুমায়ুন কবির। তার মতে, বিমসটেককে শুধু আন্তঃসরকারি প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত আঞ্চলিক কমিউনিটিতে রূপ দিতে হবে।

মন্তব্য করুন