শিক্ষা, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সাথে দুই দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে অভিন্ন স্বার্থের বিভিন্ন বিষয়েও দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে পাঠানো অভিনন্দনপত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে হস্তান্তর করেন। এ জন্য রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রপতি এবং হাইকমিশনারের মাধ্যমে তার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, কমনওয়েলথের বৃত্তি বৃদ্ধি এবং দেশের শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নে ব্রিটিশ সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতেও যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে। এ ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির গণতন্ত্র চর্চায় যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে দুই দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর জোর দেন তিনি।
বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার জানান, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ পণ্য এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও আরো তিন বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে। রাষ্ট্রপতি এ সুযোগকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ডিজিটাল ক্লাইমেট ডাটা বিনিময়ের উদ্যোগের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে জানান সারাহ কুক। আবহাওয়া ও জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করা এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এ উদ্যোগ কার্যকর হবে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব ও প্রেস সচিব, ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)