Logo
×

Follow Us

জাতীয়

বিদ্যুৎ খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ খাতে ৪৬৫১ কোটি টাকার বকেয়া

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ খাতে ৪৬৫১ কোটি টাকার বকেয়া

ফাইল ছবি

দেশে লোডশেডিংয়ের চাপের মধ্যেই বিদ্যুৎ খাতে সরকারের আর্থিক দায় আরো বাড়ছে। মাতারবাড়ী ও পটুয়াখালীর দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ ঘাটতি ও বকেয়া পরিশোধে বিপুল অর্থের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে শুধু মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়াই প্রায় ৪ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা, ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ এবং বিদেশি ঋণের কিস্তি মেটাতে দ্রুত অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়ে অর্থ সচিবকে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগের নথি অনুযায়ী, আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেডের (আরএনপিএল) পটুয়াখালী ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু ধরা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে। দ্বিতীয় ইউনিটের ক্ষেত্রে তা ২৮ মে ২০২৬। অন্যদিকে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর থেকেই ট্যারিফ ঘাটতির হিসাব করা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী এসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে পিডিবিকে যে মূল্য দিতে হচ্ছে, গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি করে তার পুরোটা আদায় হচ্ছে না। ফলে ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নথিতে আরএনপিএল ও সিপিজিসিবিএলের ইউনিটভিত্তিক উৎপাদন, প্রভিশনাল ট্যারিফ, ক্যাপাসিটি পেমেন্ট ও এনার্জি পেমেন্টের হিসাব করে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

পটুয়াখালী কেন্দ্র ঘিরে বিদেশি ঋণের দায়ও সরকারের ওপর রয়েছে। প্রকল্পটির অর্থায়নে চীনের এক্সিম ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন ঋণ সিন্ডিকেট থেকে অর্থ নেয়া হয়েছে, যার ৫০ শতাংশের জন্য বাংলাদেশ সরকার সার্বভৌম গ্যারান্টি দিয়েছে। ঋণের প্রথম কিস্তির আসল ও সুদ পরিশোধ করা হলেও পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ১৩৬.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের দায় সামনে এসেছে। বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে কেন্দ্রটির পরিচালনা ও জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু বকেয়া ভর্তুকি পরিশোধ করলেই বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয়মূল্য, ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি ব্যয় এবং গ্রাহক পর্যায়ের ট্যারিফের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। তা না হলে একটি কেন্দ্রের বকেয়া মেটানোর পর অন্য কেন্দ্রের ট্যারিফ ঘাটতি তৈরি হয়ে ভর্তুকির চাপ আরো বাড়তে পারে।

পিডিবির হিসাবে, চলতি বছর বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাহিদা ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত ফেব্রুয়ারির হিসাবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহে গড়ে ব্যয় প্রায় ১২ টাকা ৯৭ পয়সা হলেও বিক্রয়মূল্য প্রায় ৭ টাকা। অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও ক্যাপাসিটি পেমেন্টও এই আর্থিক চাপের অন্যতম কারণ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ প্রায় ৫২ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা পরিশোধের প্রক্ষেপণ রয়েছে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্প্রতি বলেছেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের ক্যাপাসিটি চার্জ পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া বকেয়ার পাশাপাশি নতুন দায়ও সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। তবে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার অতিরিক্ত ব্যয় কোনোভাবেই সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো হবে না।

বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ জানান, বিশেষ আইন বাতিল হলেও ওই আইনের আওতায় আগে করা চুক্তিগুলো বহাল থাকবে এবং সেসব চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। সরকারি হিসাবে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যথেষ্ট হলেও জ্বালানি ও গ্যাস সংকট, কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিক চাপের কারণে সব সক্ষমতা সবসময় কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন না হলেও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের দায় থেকে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের নথিতে বলা হয়েছে, আরএনপিএলের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে কেন্দ্র পরিচালনা ও জ্বালানি সরবরাহে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই বকেয়া ভর্তুকির অর্থ দ্রুত পরিশোধ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন