Logo
×

Follow Us

জাতীয়

সকল জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

সকল জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা

ছবিঃ বাসস

দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে ডায়ালাইসিস বিষয়ে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে নতুন করে ২ হাজার ৫০০টি পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বাসসকে জানান, এরই মধ্যে ১২০ জনকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে সিলেটসহ আরও কয়েকটি এলাকায় বড় পরিসরে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। একই সাথে দেশজুড়ে ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স নিয়োগের উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন নেয়া হয়েছে। এতে অংশ নিতে আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ করতে হবে এবং বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।

গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক সভায় ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণসহ এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সমন্বয় সেলের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়।

এর আগে ২০ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। বর্তমানে ডায়ালাইসিস সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায় অবস্থিত। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই চিকিৎসাসেবার ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে সেবাটি তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়েও এ সুবিধা চালুর জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। ১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৫০০ জন নার্স থাকবেন। প্রতি ব্যাচে ৫০ থেকে ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) ও ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট মোকাবিলায় প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক পাওয়া না গেলে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

এ ছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এক মাসের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও সভায় নেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন