বাক-স্বাধীনতা ও নাগরিক সুরক্ষায় সরকার অত্যন্ত সচেতন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
ছবি: মন্ত্রণালয়
নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সচেতনভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে। তবে গঠনমূলক সমালোচনার সাথে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কারও চরিত্রহননকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে।
বৈঠকে সাইবার অপরাধ, অনলাইন বুলিং প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় আইআরআইয়ের পক্ষ থেকে তাদের চলমান যুব নেতৃত্ব বিকাশ ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের একটি অংশ সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর জন্য সর্বসম্মত নীতি এবং আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে দেখছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ ও হয়রানি প্রতিরোধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনটি পরিমার্জনের আগে গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক এবং সুশীল সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেয়া হচ্ছে। ডিজিটাল পরিসরে শালীনতা নিশ্চিত করা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আইন প্রণয়ন বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের অপব্যবহারের সুযোগ না থাকে, সে বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সাথে সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।
সাক্ষাৎকালে আইআরআই প্রতিনিধিদলের সদস্য সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, সংস্থাটির টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার রুকসানা হক এবং আইআরআই প্রশিক্ষণার্থী ও তরুণ রাজনীতিবিদ চামন ফারিয়া ও মোহাম্মদ প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ এবং রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)