Logo
×

Follow Us

জাতীয়

জ্বালানি নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় জোর

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ এএম

জ্বালানি নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় জোর

সংগৃহীত ছবি

টেকসই ও নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বন্ধুভাবাপন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে বাংলাদেশ একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

শুক্রবার জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজ্যুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ প্রত্যয়ের কথা জানান। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিলায়াবিলিটি’।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সাথে দেশে জ্বালানির ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে তা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এলএনজি আমদানি দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে বছরে এলএনজির চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে অতিরিক্ত ৬০০ এমএমসিএফডি সক্ষমতার একটি এফএসআরইউ স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার এমএমসিএফডি সক্ষমতার ল্যান্ড-বেসড এলএনজি টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬-৩০ মেয়াদে এলএনজি সক্ষমতা আরো ৩ থেকে ৪ এমটিপিএ এবং ২০৩১-৪০ মেয়াদে ১৭ থেকে ১৮ এমটিপিএ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।

এলএনজি সরবরাহের উৎস ও পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত রয়েছে। এতে মুনাফা স্থানান্তর, কর পরিশোধে সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব স্থিতিশীলতার মতো বিভিন্ন সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তাকে শুধু জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নির্ভরযোগ্যতা, জ্বালানির উৎসের বৈচিত্র্য, সাশ্রয়ী মূল্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নমনীয়তা নিশ্চিত করেই ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তুলতে হবে।

মন্তব্য করুন