পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিটি মানুষ সচেতন হলে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিলে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিন মাসব্যাপী এ অভিযানের আয়োজন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাটে এখনো অনেকে যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। তাদের সচেতন ও নিরুৎসাহিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করলে পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের মূল লক্ষ্য হতে হবে ‘কাজ, কাজ, কাজ’ এবং ‘পরিচ্ছন্নতা’। পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন সমাজের মধ্য দিয়েই একটি সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, কাজটি কঠিন নয়। সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা করে নিজের বাড়ি, স্কুল, কলেজ বা কর্মস্থল পরিষ্কার রাখার কাজে সময় দিলে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। একই সাথে নিজের স্বাস্থ্য, পরিবার, সমাজ ও দেশের সুস্থতার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পুনর্গঠনে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণ সমাজ পরিবর্তনের সক্ষমতা দেখিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্বও তরুণদের নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ২৩ লাখ স্কাউট, ২২ হাজার বিএনসিসি সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশকে পরিবর্তনের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করলে কেউ সেই পরিবর্তন ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
তিনি বলেন, সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গার্লস গাইড, বিএনসিসি, স্কাউটস, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এ অভিযানে যুক্ত হয়েছেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পরিচ্ছন্ন করার কাজ এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী তিন মাস বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শতভাগ সাফল্য সম্ভব না হলেও অন্তত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সমস্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গুর অন্যতম কারণ মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়া উল্লেখ করে তিনি জমে থাকা পানি ও বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে ফেলার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, সামান্য একটি টিস্যু বা অন্য কোনো আবর্জনাও যদি যেখানে-সেখানে ফেলা হয়, তা ধীরে ধীরে বড় ময়লার স্তূপে পরিণত হতে পারে। সেখান থেকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ডেঙ্গুর মশার প্রজননও হতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত নিজের পরিবারের সদস্য বা প্রিয়জনের ওপরও পড়তে পারে।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে দেশের সব জেলা প্রশাসনও অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিল।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)