Logo
×

Follow Us

জাতীয়

শিক্ষার মানোন্নয়নে ১৫ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে শিক্ষা প্রশাসন

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ এএম

শিক্ষার মানোন্নয়নে ১৫ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে শিক্ষা প্রশাসন

শিক্ষার মানোন্নয়নে ১৫ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে শিক্ষা প্রশাসন

শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া ১৫ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা প্রশাসন। শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো, শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি এবং শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

কর্মপরিকল্পনার আওতায় সারাদেশের স্কুল-কলেজে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা ও রুটিন চালু, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তির মাধ্যমে লাইভ মনিটরিং, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষকদের পদক ও পুরস্কার দেয়ার পাশাপাশি ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্বে জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব কমানোর বিষয়টি এতে গুরুত্ব পাবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হলে শিক্ষকদেরও দায় নিতে হবে। অতীতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পরিবর্তে শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত ২৮ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া কমানো, শিক্ষক দক্ষতা বাড়ানো এবং শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় ১৫ দফা নির্দেশনা দেন। পরে ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত রেকর্ড অব নোটস ও কার্যবিবরণী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, চিত্রাঙ্কন ও গণিত অলিম্পিয়াডসহ সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। একই সাথে শিক্ষকদের আচরণবিধি সংশোধন, শিক্ষাবহির্ভূত কাজে শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা কমানো এবং সারাদেশে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা ও রুটিন বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দেশের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীদের দক্ষ শিক্ষকদের পাঠদানের সুযোগ করে দিতে ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান অনলাইনে তদারকি এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ আরও কার্যকর করার নির্দেশনাও রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য অব্যবহৃত সরকারি ভবন ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।

গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক সংকট দ্রুত নিরসন, শূন্য পদ পূরণ এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভালো কাজের স্বীকৃতিতে শিক্ষকদের পুরস্কৃত করা, শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং শিক্ষা পরিকল্পনায় গবেষণাভিত্তিক তথ্য ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে আকর্ষণীয় পাঠদান নিশ্চিত, পেশাগত উন্নয়নে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং প্রশিক্ষণের তাৎক্ষণিক মূল্যায়নের নির্দেশও রয়েছে। প্রশিক্ষণ-পরবর্তী ভালো চর্চা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষকদের ‘এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালুর কথাও বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দফা বাস্তবায়নের বড় অংশের দায়িত্ব পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। গত ২০ আগস্ট মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন উইংয়ের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। পরে বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

মাউশির অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষক প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। আইসিটি প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ৩ লাখ ৫ হাজার ২৮৮ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে ‘মাস্টার ট্রেইনার পুল’ ও ‘টিচার্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালুর পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে সমন্বয় করে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।

শ্রেণিকক্ষের পাঠদান সরাসরি পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর পিডিএসে হালনাগাদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাউশির সহকারী পরিচালকরা ‘ডিএমএস অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ভিডিও কল ব্যবহার করে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন।

গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নতুন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার এবং সংসদ টেলিভিশনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ চালুর খসড়া পরিকল্পনাও প্রস্তুত করা হয়েছে। সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়াতেও মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দফা নির্দেশনা মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। প্রতিটি উইংকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দায়িত্ব পালনের জন্য কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এআই প্রশিক্ষণ, অ্যাপভিত্তিক লাইভ মনিটরিং ও জাতীয় শিক্ষা চ্যানেলের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

নির্দেশনা বাস্তবায়নের ফোকাল পারসন ও মাউশির উপপরিচালক (এইচআরএম) মো. শওকত হোসেন মোল্ল্যা জানান, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং জাতীয় শিক্ষা চ্যানেলের মতো কারিগরি উদ্যোগগুলো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।

মন্তব্য করুন