Logo
×

Follow Us

জাতীয়

১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: পিআইডি

দেশীয় উদ্ভাবনকে নীতি সহায়তা, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও দেশ-বিদেশের বাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনগুলোর সাথে সরকারের নীতি সহায়তা, প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, শিক্ষা খাত এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের কার্যকর সংযোগ তৈরিতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদ্ভাবকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগ ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেয়ার পথও তৈরি হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা ও প্রদর্শনীর অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

আয়োজকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলায় সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই), উদ্ভাবনী সেবাদাতা, আইডিয়া ইনকিউবেটর, পরিবেশক এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন। প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হবে।

মেলার দ্বিতীয় দিন ১৩ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিশেষ আয়োজন থাকবে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেশনে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা ও কম খরচে চিকিৎসার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এই বিশেষ সেশনে এমন সব স্বাস্থ্য-উদ্ভাবন তুলে ধরা হবে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে বিপুল সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও নতুন ধারণার উদ্ভব হলেও নীতি সহায়তা, প্রাথমিক অর্থায়ন, বাজারসংযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে অনেক উদ্ভাবন গবেষণাগারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এসব প্রশাসনিক ও আর্থিক বাধা দূর করে উদ্ভাবনকে গবেষণাগার থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন এবং বাজারে পৌঁছে দেওয়াই মেলার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

মেলায় ‘পলিসি মেশা’ নামে একটি নীতি-নির্ধারণী গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে। এতে মন্ত্রী, সচিব, শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও সিটি করপোরেশনের মেয়ররা অংশ নিয়ে উদ্ভাবনবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।

এ ছাড়া উদ্ভাবনী প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে থাকবে ‘ইনভেস্টমেন্ট মেশা’। স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, তৈরি পোশাক, কৃষি, বেসামরিক বিমান চলাচল, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতের সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন বাছাই করে সেগুলোতে বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে। উদ্ভাবকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে মেলার পুরো প্রাঙ্গণে থাকবে ‘উদ্ভাবন হাব’।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এই আয়োজন দেশের উদ্ভাবক ও শিল্পোদ্যোক্তাদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে। এর মাধ্যমে জাতীয় উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশের উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর সাথে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে। কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) এবং মেধাস্বত্বসংশ্লিষ্ট সংস্থা। কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পাশাপাশি ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই) স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সেশনটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর এ আয়োজনের বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে স্পেকট্রাম কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।

মন্তব্য করুন