স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হলেও কোনো প্রার্থী কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে যুক্ত, তা স্থানীয়ভাবে ভোটারদের কাছে পরিচিত হতে পারে। তবে কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার ওপর প্রভাব ফেলবে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে স্থানীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি ইউনিয়নে সম্ভব হলে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখা যায়। এসব প্রার্থী দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী হবেন না; বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও কোনো এলাকায় চেয়ারম্যান প্রার্থী কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত, তা ভোটারদের কাছে অজানা থাকার কথা নয়। তবে নির্বাচনে সরকার কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর জন্য বিশেষ সুবিধা দেবে না।
সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করাই সরকারের দায়িত্ব। আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা প্রত্যেক বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, প্রার্থীরা যাতে নিরাপদে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—স্থানীয় সরকারের এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে চায় সরকার। এসব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনেও নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
বৈঠক প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব রয়েছে। স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন কার্যক্রমেও দুই দেশের সহযোগিতা দীর্ঘদিনের।
তিনি জানান, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করে আসছে। এ সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেশটি ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করেছে।
সারাহ কুক বলেন, জাতীয় নগর উন্নয়ন কর্মসূচি এবং নতুন জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতি প্রণয়নেও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সাথে কাজ করেছে। ভবিষ্যতে এই দীর্ঘ অংশীদারিত্বের অভিজ্ঞতা কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, বৈঠকে সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতায় টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও মানুষের সহনশীলতা বাড়াতে যুক্তরাজ্য কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। সুন্দরবন এলাকায় চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সারাহ কুক।
বৈঠককে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার, নগর উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতার আরও সুযোগ রয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সাথে সরকারের নিয়মিত সৌজন্য সাক্ষাতের অংশ হিসেবেই ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকটি হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাজ্য। সিটি করপোরেশনগুলোতে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পাশাপাশি অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রকল্পেও ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে।
তিনি বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্রিটিশ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট টিম বা যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৮ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থবছর ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ৩১ মার্চ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রিসভা এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। তবে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন থাকায় পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)