সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা ও
সাইবার আইনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষাই সরকারের লক্ষ্য: তথ্যমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ছবিঃ বাসস
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা বন্ধ, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। একই সাথে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়নের ক্ষেত্রে মুক্তচিন্তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
আন্দালিভ রহমান বলেন, কোনোভাবেই মুক্তচিন্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কিংবা সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশ্যে আইনটি করা হচ্ছে না। অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইনের অপব্যবহারের যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ভাষায় এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক বা অস্পষ্ট শব্দ রাখা হবে না, যা ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। খসড়াটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, বাকস্বাধীনতার নামে বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ছে। এসব কর্মকাণ্ড সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ওপর প্রভাব ফেলছে। একদিকে সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং অন্যদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—দুটি বিষয় কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আইনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। আন্দালিভ রহমান বলেন, শুধু কঠোর আইন প্রয়োগ করে সব ধরনের সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সত্যতা যাচাই না করে মানহানিকর তথ্য বা পোস্ট শেয়ার করার আইনি পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।
এর আগে পরামর্শ সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত করার আগে তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের সুরক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ ও মতামত নেয়া প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ে আইনের ভাষা কীভাবে কার্যকর হয় এবং কোথায় অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে সাংবাদিক ও সম্পাদকদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণমাধ্যম সম্পাদকদের উদ্দেশে আন্দালিভ রহমান বলেন, আইন সংশোধনের পেছনে সরকারের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই। প্রিন্ট মিডিয়ার উদ্বিগ্ন হওয়ারও কারণ নেই। খসড়ায় কোনো অস্পষ্টতা বা জটিলতা থাকলে তা মুক্তভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধন প্রয়োজন। একই সাথে আইনটির অপব্যবহার ঠেকাতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধ বাড়ছে। বাংলাদেশেও অনলাইন জালিয়াতি, সেক্সটোরশন, নারীদের ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো অপরাধ মোকাবিলায় যুগোপযোগী আইন প্রয়োজন। তবে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আইনটি এমনভাবে পরিমার্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, যাতে এর অপব্যবহার বা বিতর্কের সুযোগ না থাকে।
সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আগের সরকারের সময় প্রণীত বিতর্কিত ও নিপীড়নমূলক ধারাগুলো বাতিল বা সংশোধনের উদ্যোগ ইতিবাচক। মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান এবং জামিন অযোগ্য ধারা বাদ দেয়ার বিষয়টিকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ভুয়া পরিচয়ে নারী, শিশু ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়। একই সাথে নাগরিকদের সাইবার অধিকার কোনো সরকারি সংস্থা লঙ্ঘন করলে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিধানও আইনে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।
সভাটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। সাইবার সুরক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান। সভায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতা এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টরা খসড়া আইন নিয়ে মতামত দেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)