Logo
×

Follow Us

জাতীয়

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, কার্বন ক্রেডিট পাবে বাংলাদেশ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১২ পিএম

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, কার্বন ক্রেডিট পাবে বাংলাদেশ

ছবিঃ বাসস

 

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। রাজধানীর আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম বড় আকারের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে এ সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও দেশের কার্বন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে অর্থায়ন চুক্তি হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ বিভাগ, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতিতে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল পরিচালনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বছরে প্রায় ৫২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। চীনের উদ্যোগে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে এই ব্যয় আর করতে হবে না। একই সাথে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। এতে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৯০ কোটি টাকার সমপরিমাণ কার্বন ক্রেডিট পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রকল্পটিতে চীনের সরাসরি বিনিয়োগ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। চীনের সিএমইসি গ্রুপের উদ্যোগে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। অর্থায়নের সঙ্গে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ডিবিএস, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও ব্যাংক অব চায়নাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি দাম ১০ টাকার নিচে দাঁড়াবে। এর বড় সুবিধা হলো বাংলাদেশ কার্বন ক্রেডিট পাবে।

কার্বন ক্রেডিট মূলত এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো কিংবা অপসারণের স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নির্গমন হ্রাসের পরিমাণ পরিমাপ, প্রতিবেদন ও স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের পর এসব ক্রেডিটের স্বীকৃতি পাওয়া যায়। ফলে আমিনবাজার প্রকল্প থেকে কত কার্বন ক্রেডিট এবং কী পরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে, তা প্রকল্পের নির্গমন হ্রাস, আন্তর্জাতিক বাজারদর ও সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন ক্রেডিট বাড়ানোর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারও পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, জ্বালানি দক্ষতা, বন সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সুযোগ কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যব্যবস্থা তৈরির নির্দেশনাও দেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, কার্বন ট্রেডিং নিয়ে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক। আমিনবাজার প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও শৃঙ্খলা ফিরবে। ল্যান্ডফিলে জৈব বর্জ্য পচে তৈরি মিথেন নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা গেলে দূষণ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানির বিকল্প উৎস তৈরি করা সম্ভব হবে। তার মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে প্রকল্পটি আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর মডেল হয়ে উঠতে পারে।

মন্তব্য করুন