ফুলগাজীর ২৮০ জন ধর্মীয় ব্যক্তিকে সম্মানি দেবেন প্রধানমন্ত্রী: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ছবি: পিআইডি
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ২৭০ জন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এবং ১০ জন পুরোহিতকে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সম্মানি প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক গঠিত ‘মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা’ বিষয়ক সেলের অষ্টম সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানি প্রদানের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম বছরে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন সুবিধাভোগীকে সম্মানি দেওয়া হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সম্মানি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়ম ছাড়াই যথাসময়ে তাদের প্রাপ্য সম্মানি পান।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্মানি ভাতা পৌঁছে দিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি জানান, এ কর্মসূচির আওতায় ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) সফটওয়্যার ব্যবহার করে জি-টু-পি পদ্ধতিতে সম্মানি ভাতা দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও ইনপুটের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী মাসের প্রথমার্ধে সম্মানীভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথমার্ধের সম্মানি ভাতা পৌঁছে দেওয়া হবে।
সভায় আরো জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতা প্রদান এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধিকতর আয়ের পথ সুগম করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানি ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত গেজেট ইতোমধ্যে জারি হয়েছে।
সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক) বিজন কান্তি সরকার, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)