Logo
×

Follow Us

জাতীয়

ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি

- অশ্রু সজল চোখে রাষ্ট্রপতি

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে আবেগাপ্লুত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাদুঘরে প্রদর্শিত বিভিন্ন নিদর্শন ও প্রামাণ্যচিত্র দেখে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশকে অনেক বড় মূল্য দিতে হয়েছে। রাষ্ট্র কখনোই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের ঋণ শোধ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পৌঁছান। এ সময় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

জাদুঘরে প্রবেশের পর রাষ্ট্রপতি ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে ঘুরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ধাপের চিত্র দেখেন। পাশাপাশি দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল এবং ‘রেপ্লিকা আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের স্মরণে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রপতি বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনের বিভিন্ন সামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। শহিদদের চিঠি, স্মারক ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ও পরিদর্শন করেন।

পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন রাষ্ট্রপতি। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন শেষে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগের ঋণ রাষ্ট্রের পক্ষে কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ আর না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে রাষ্ট্রপতি আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন। তিনি শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেন গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

মন্তব্য করুন