বন্দর হস্তান্তরে ‘সক্ষমতা নেই’ যুক্তি দিয়ে ৫৪ বছর ধরে প্রতারণা করা হয়েছে: আনু মুহাম্মদ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা নেই’—এই যুক্তি দিয়ে গত ৫৪ বছর ধরে দেশের তরুণদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটি (এমসিআরএস) আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং কোনো প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ছাড়া এমন কৌশলগত অবকাঠামো তাদের হাতে তুলে দেওয়া হলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ হুমকির মুখে পড়তে পারে।
গোলটেবিলে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক আমার দেশ-এর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সোহাগ কুমার বিশ্বাস। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এনসিটিতে প্রায় ২,৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আরও ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন ও ৩৩টি আরটিজি যুক্ত হয়েছে। দেশীয় ব্যবস্থাপনায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে টার্মিনালটি ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে, যা নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।
প্রবন্ধে আরও দাবি করা হয়, প্রস্তাবিত কনসেশন কাঠামো কার্যকর হলে প্রতি কনটেইনারে বন্দরের নিট আয় ৬৫.২৫ ডলার থেকে কমে ১৭.১৮ ডলারে নেমে আসতে পারে। এতে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা এবং ৩০ বছরে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি টার্মিনালের তথ্যব্যবস্থা, কার্গো ম্যানিফেস্ট ও বার্থিং সূচির নিয়ন্ত্রণ বিদেশি অপারেটরের হাতে গেলে তা কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
আলোচনা শেষে এমসিআরএস সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র বাধ্যতামূলক করা, বিদেশি বিনিয়োগে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম ৫১ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করা, কনসেশনের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ বছর নির্ধারণ, চুক্তির খসড়া প্রকাশ ও সংসদীয় পর্যালোচনা, তথ্যের মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে রাখা এবং শ্রমিকদের চাকরি ও দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির নেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফি রতন, ড. হারুন অর রশিদ, সত্যজিৎ বিশ্বাস, সায়েদুল হক নিশান, দিলীপ রায়, অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা রিতুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন এমসিআরএসের নির্বাহী পরিচালক বাতেন বিপ্লব।
বক্তারা বলেন, প্রশ্নটি দেশি না বিদেশি—এটি নয়; বরং কোন শর্তে, কত বছরের জন্য এবং কতটা স্বচ্ছতার মাধ্যমে বন্দর পরিচালিত হবে, সেটিই জাতীয় স্বার্থের মূল বিবেচ্য বিষয়।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)