গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছবি: বঙ্গভবন
গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শক্তি গণমাধ্যম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে গণমাধ্যমকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। একই সাথে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ও সঠিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রেস ক্লাবের সাথে তাঁর সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। জীবনের সবচেয়ে দুঃসময়ে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা তাঁর পাশে ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণতন্ত্রকে কেবল রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়, একটি সংস্কৃতি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মানুষের মন-মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন। পুরোনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন এলেও পুরোনো মানসিকতা থেকে গেলে কাঙ্ক্ষিত ও স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রকৃত পরিস্থিতি জনগণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের কল্যাণে তাঁর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য তাঁর জায়গা থেকে যতটুকু করার সুযোগ রয়েছে, তিনি তা করার চেষ্টা করবেন।
দেশে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদপত্র পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে ট্রাস্টের অধীনে থাকা বন্ধ পত্রিকাগুলো চালু করা সম্ভব হলে অন্তত এক হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বিভক্তি কখনো সাফল্য বয়ে আনতে পারে না। সাংবাদিকরা মৌলিক বিষয়গুলোতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। ফলে গণমাধ্যমের দায়িত্বও বেড়েছে। সরকারের ভুল-ত্রুটি বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের ইতিবাচক কাজগুলোও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের দীর্ঘ ঐতিহ্য স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। দেশের গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং সাংবাদিকদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকারের নেতৃত্বের সাথে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তাঁকে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাব পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতিকে প্রেস ক্লাবের পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রেস ক্লাবেরই একজন সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তাঁরা গর্বিত ও আনন্দিত বলেও জানান তিনি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ রাষ্ট্রপতির সাথে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।
সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী অতীতে সংঘটিত অপসাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চান তিনি।
এ সময় প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা। রাষ্ট্রপতি তাঁদের এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য বখতিয়ার রাণা, কাজী রওনাক হোসেন, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাদের গনি চৌধুরী, শাহনাজ বেগম পলি, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, আবদুল হাই শিকদার, মাসুমুর রহমান খলিলী, এ কে এম মহসীন ও জাহিদুল ইসলাম রনিও উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)