অস্ট্রেলিয়ার সাথে স্থানীয় সরকারে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ: এলজিআরডি মন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতে অস্ট্রেলিয়ার সাথে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন মন্ত্রী। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা স্থানীয় সরকারবিষয়ক পাঁচটি অধ্যাদেশ নতুন সরকার জাতীয় সংসদে আইন হিসেবে পাস করেছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ আইনে দলীয় মনোনয়ন এবং জাতীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগের বিধান বাতিল করা হয়েছে।
সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীকরণ, ক্ষমতার ভারসাম্য, নারী ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সাথে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পানি নিষ্কাশন, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। সুশাসন ও নারী ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
বৈঠকের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। নতুন পোর্টফোলিওতে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান সুসান রাইল।
এদিকে বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দ্রুত নগরায়ণের কারণে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের পাশাপাশি তা থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মীর শাহে আলম। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)