ভারতের সাথে সম্পর্ক জোরদারে
অমীমাংসিত ইস্যু দ্রুত সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ করে গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও উভয় দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য উপায়ে সমাধান করা গেলে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়বে।
অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সাথে সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ বিষয়ে তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে রাষ্ট্রপতিকে জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সাথে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও জনগণের কল্যাণকে ভিত্তি করে ভারতের সাথে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আগ্রহী।
সাক্ষাতে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ভারতের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও উন্নত করতে ভারত আগ্রহী। দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
ভারতীয় হাইকমিশনারের শুভেচ্ছার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতি তাঁর আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের জনগণের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ও ভারত আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে।
সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে ভারতের হাইকমিশনার দুই দেশ ভবিষ্যতেও একসাথে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি দীনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্বকাল সফল হওয়ার কামনা করেন এবং তাঁর মেয়াদ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)