১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
বহুল প্রতীক্ষিত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি বা দুটি ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে নতুন টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে এর পূর্ণাঙ্গ অপারেশন চালু করা হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
টার্মিনাল চালুর সময়সীমা প্রসঙ্গে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যেকোনোভাবেই হোক ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল চালু করতে চায় সরকার।
মন্ত্রী জানান, টার্মিনালটি চালুর প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ইন্টারনেট সংযোগ এবং অপারেশনাল সিস্টেম নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিদিনই এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ। বাকি ইন্টিগ্রেশন ও প্রযুক্তিগত কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে থার্ড টার্মিনালের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় চার গুণ বাড়বে। নতুন এই টার্মিনাল সর্বোচ্চ ২৫০টি উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করবে বলে জানান বিমানমন্ত্রী।
থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে জাপানি অংশীদারদের সাথে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, টার্মিনাল পরিচালনা থেকে বাংলাদেশের রাজস্ব অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে।
প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের বিষয়েও তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখনো প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা বাকি রয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে আগামী বছর থেকেই বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়বে। আধুনিক এই অবকাঠামোর মাধ্যমে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের সক্ষমতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা পাবেন—এমন লক্ষ্যেই টার্মিনালটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এদিকে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে শুধু নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালু করা এবং যাত্রীদের উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করা।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরুর পর পর্যায়ক্রমে থার্ড টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ অপারেশন চালু হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে টার্মিনালের পূর্ণ দায়িত্ব বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্য রয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)