Logo
×

Follow Us

জাতীয়

চিকিৎসক-রোগীর নিরাপত্তা সরকারের অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

চিকিৎসক-রোগীর নিরাপত্তা সরকারের অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

চিকিৎসক ও রোগী—উভয়ের নিরাপত্তাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা পাওয়ার অধিকার রক্ষায় সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ আয়োজিত ‘৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৫ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলেই হবে না, স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক পরিবেশও উন্নত করতে হবে। হাসপাতালে সেবার মান বাড়ানো, রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষ অনেকটাই কমে আসবে।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে নেবেন। চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও যথাযথ চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই বিষয়েই সরকার অত্যন্ত সচেতন।

তিনি বলেন, মানুষের অসন্তোষের পেছনে থাকা মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে পারলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। তাই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেবার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে নির্বাচনী ইশতেহারে ২০টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে চিকিৎসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাদের সহযোগিতা ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পেয়েছে, যেখানে দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য ও নানা ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসেছিল। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।

নবীন চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা একদিকে চিকিৎসক, অন্যদিকে সরকারের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞানের পাশাপাশি সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডারিং ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও শুরু থেকেই দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।

মাঠপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন কার্যক্রম সফল করতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের পরিবেশ তৈরি করার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।

ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও গবেষণামুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, সরকার আধুনিক ‘ডিজিটাল হেলথ’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। আগামী কয়েক দশক দেশের মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে হলে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদেরই এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন