সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে বললেন অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
সংগীত, চলচ্চিত্র, থিয়েটার ও ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পসহ সৃজনশীল খাতের প্রতিভাবানদেরও ঋণের আওতায় এনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি বা পোলট্রির মতো প্রচলিত উদ্যোগের পাশাপাশি সৃজনশীল খাতেও অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে হবে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংক আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন তহবিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বক্তব্য দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের সহায়তা করলে হবে না। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। অর্থের অভাবে দেশের অনেক শিক্ষিত ও সৃজনশীল মানুষ তাদের প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারছেন না। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তাদের প্রবেশাধিকারও সীমিত। এসব মানুষের কাছে অর্থায়নের সুযোগ পৌঁছে দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিশ্বের কয়েকটি দেশের অর্থনীতিতে সৃজনশীল খাতের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ। বাংলাদেশেও এ খাতের অবদান অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
ঋণভিত্তিক অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ঋণের সঙ্গে সুদ বা অর্থায়ন ব্যয় যুক্ত থাকায় উদ্যোক্তার মধ্যে বিনিয়োগ সফল করার দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহও বাড়ে। অন্যদিকে, বিনা খরচে দেওয়া অনুদানের অর্থ অনেক সময় প্রত্যাশিতভাবে কাজে নাও লাগতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঐতিহ্যবাহী পেশার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁতি, কাঁসাশিল্পী ও মৃত্তিকাশিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই কাজ করে আসছে। আধুনিক নকশা, মানসম্মত কাঁচামাল, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সহায়তা দেওয়া গেলে এসব পণ্যের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
তার ভাষ্য, নকশা ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে ১০০ টাকার একটি পণ্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাজার কাজে লাগিয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য বিদেশেও বাজারজাত করার সুযোগ রয়েছে।
ক্ষুদ্র, ছোট ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য সমন্বিত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, উদ্যোক্তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রচলিত উদ্যোগের পাশাপাশি সৃজনশীল প্রতিভাবানদেরও অর্থায়নের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)