বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্কে সহযোগিতা বাড়াতে চান এলজিআরডি মন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
ছবিঃ পিআইডি
বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ, ভাষা শিক্ষা ও নগর ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে নতুন নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে ইতালীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে দেশটির সহযোগিতা চান মন্ত্রী। বাংলাদেশে প্রশিক্ষক তৈরির পাশাপাশি ইতালিতে কাজ করতে আগ্রহী দক্ষ কর্মীদের ইতালীয় ভাষায় প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান তিনি।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালিতে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। দক্ষতা উন্নয়ন ও ইতালীয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে বৈধ পথে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে ইতালির সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সাথে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা ও ভাষা প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে মিলান সিটির সঙ্গে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং খাদ্য অপচয় রোধে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থপতিদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)