সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী দেবে সরকার
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ এএম
ফাইল ছবি
দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা করেছে সরকার। এর আওতায় ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও অন্যান্য সেবকের জন্য মাসিক সম্মানী, ধর্মীয় উৎসব ভাতা এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন নীতিমালায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের কল্যাণে সরকারি সহায়তার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের এ অবদান বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতেই নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত আয় ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি সহায়তা শুধু সম্মানী ও উৎসব ভাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উপাসনালয়ের কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহাবস্থান আরও শক্তিশালী করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
দীর্ঘদিন ধরে ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় সেবকরা ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছেন। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তাদের এই অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিমালাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমবে এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)