Logo
×

Follow Us

জাতীয়

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ এএম

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ

ছবিঃ বাসস

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬’-এ নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এতে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন, ব্যয় এবং আচরণের বিষয়ে বেশ কিছু নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল বা শোডাউন করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেনসহ কোনো যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রার আয়োজনও নিষিদ্ধ। নির্বাচনী প্রচারণায় হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়নি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরু করার আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার পেছনে ব্যয় করা অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ডিজিটাল প্রচারণায় এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন বিধিমালায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচন বা কোনো প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন ভুয়া কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এআই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।

ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাবার, পানীয় বা উপহার দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির প্রয়োগ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সুযোগও থাকছে না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রচারণার সময় নির্ধারিত সীমার বাইরে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন কিংবা মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের বিধিমালার নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি প্রয়োগ করে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এসব বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নতুন আচরণবিধির উদ্দেশ্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রচারণায় এআইনির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মন্তব্য করুন