Logo
×

Follow Us

জাতীয়

গ্যাসে আমদানি নির্ভরতা কমাতে চায় সরকার: প্রেস সচিব

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

গ্যাসে আমদানি নির্ভরতা কমাতে চায় সরকার: প্রেস সচিব

ছবি : বাসস

গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যাতে জ্বালানি সংকট নতুন করে বড় সমস্যায় পরিণত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোতে চায়।

রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ইআরএফ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেলের সংকট পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস প্রয়োজন, আবার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট একে অন্যকে প্রভাবিত করে। বর্তমানে যেখান থেকে গ্যাস কেনা হতো, যুদ্ধের কারণে তারাও সমস্যায় পড়েছে এবং আগের মতো সরবরাহ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে চায় না। বরং গ্যাসের ক্ষেত্রে পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের পাশাপাশি সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান করতে চায় সরকার।

প্রেস সচিব বলেন, ২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছিল। সে সময় অফিসের সময় পরিবর্তন এবং সপ্তাহের কয়েক দিন স্কুল বন্ধ রাখার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা একটি সরকারের আমলেও যুদ্ধের প্রভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্বে এসেছে মাত্র ছয় মাস আগে। তাই অতীতের সব দায় এই সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়।

তিনি বলেন, কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। সংকটের দায় চাপানোর পরিবর্তে সমাধানের পথ বের করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে তরুণদের একাধিক ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্ব দেন আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ। তিনি বলেন, সরকার চায় দেশের তরুণরা তিন থেকে চারটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করুক। এতে বাংলাদেশে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে ইআরএফকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের তথ্য এখন মুহূর্তেই আদান-প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। একসময় অকল্পনীয় মনে হওয়া ‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা’ এখন বাস্তবতা। ফলে বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একাধিক ভাষা শেখাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইআরএফের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল হক জাহিদ বলেন, প্রতিদিনের রিপোর্টিংয়ের কাজে ইংরেজিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি চীনা, জাপানি ও ফরাসিসহ অন্যান্য ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান থাকলে দেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

হেডম্যান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন বলেন, আনন্দদায়ক পরিবেশে ভাষা শেখানো হলে তা সবচেয়ে কার্যকর হয়। বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশসেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, সদস্যদের বিভিন্ন ভাষা শেখার ও চর্চার সুযোগ দিতে দীর্ঘদিন ধরেই ভাষা ক্লাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল সংগঠনটির। ভাষাগত দক্ষতা সাংবাদিকদের দৈনন্দিন রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি দূতাবাসের কর্মকর্তা ও অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করে। একাধিক বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনে বিভিন্ন দূতাবাসের সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেশ।

মন্তব্য করুন