সংঘাত-সংঘর্ষ নয়, আলোচনা-সমঝোতায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক দলগুলোকে সংঘর্ষে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, হানাহানি-সংঘর্ষ নয়, পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও গণতান্ত্রিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই আহ্বান জানান। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম সফরে এসে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও উষ্ণ সংবর্ধনায় সিক্ত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঠাকুরগাঁওসহ সারাদেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও বিভেদের অবসান চান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, যারা নিষ্ঠার সাথে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন, রাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে। যেকোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা দূর করে সমঅধিকারের ভিত্তিতে একতাবদ্ধ বাংলাদেশি হিসেবে সবাইকে শান্তিতে বসবাসের তাগিদ দেন তিনি। দলীয় বিরোধ ভুলে জাতীয় স্বার্থে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এই নাগরিক সমাবেশ থেকে।
দেশের তরুণ প্রজন্মকে কেবল সরকারি চাকরি ও ঠিকাদারির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের দক্ষতার পরিচয়ে নিজেকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে হবে। একটি সুন্দর সমাজ গড়তে তোমরা এগিয়ে এসো। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাই মিলে রুখে দাঁড়াও। চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা অনেকটাই অবহেলিত। আমি চেষ্টা করেছি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য কিছু করার। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। এরই মধ্যে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। বিমানবন্দর চালুর জন্যও কাজ চলছে।
তিনি বলেন, আমরা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। আমরা আর রক্তপাত দেখতে চাই না। আমরা একটি সুন্দর সমাজ দেখতে চাই, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেখতে চাই। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি, আমরা সেই গণতন্ত্র আর হারাতে চাই না।
মানুষের উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের উন্নতির জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বেকারত্ব দূর করার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে।
এর আগে দুই দিনের সফরে রবিবার দুপুরে হেলিকপ্টারে করে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান তিনি। তার আগমনকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় জমে। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানো হয়। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে তিনি শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম থেকে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউজে পৌঁছান। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সার্কিট হাউজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে যান। সেখানে তিনি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। এসময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় বরণ করে নেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি।
দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে। এ কর্মসূচি শেষে রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)