Logo
×

Follow Us

জাতীয়

সাংস্কৃতিক ঐক্য সম্প্রীতির বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

সাংস্কৃতিক ঐক্য সম্প্রীতির বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

ছবিঃ বাসস

বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, একটি জাতির প্রকৃত পরিচয় তার সংস্কৃতিতে। সংস্কৃতি মানুষকে বিভক্ত করে না, বরং ঐক্যবদ্ধ করে। তাই সাংস্কৃতিক ঐক্যই সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় শক্তি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে নজরুল বর্ষ উদযাপন, শিল্পী ও গবেষক বিনিময়, ক্ল্যাসিক্যাল সংগীত, লোকসংস্কৃতি, তরুণ প্রতিভার বিকাশ এবং সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগের বিষয় উঠে আসে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নয়, এটি আত্মার সম্পর্ক। দুই দেশের মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, লোকঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর মিল এই সম্পর্কের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি।

তিনি বলেন, মোহাম্মদ রফি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অলকা ইয়াগনিক ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতা দুই দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে জায়গা করে নিয়েছে। শিল্প ও সংস্কৃতি যে কোনো সীমান্তের বাধা অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ের ভাষায় কথা বলতে পারে—তাঁদের অবদান তারই প্রমাণ।

চলমান নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে ভারতের খ্যাতিমান নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিবিদদের অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী। একই সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ এবং বাংলা লোকসংগীতকে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ধর্মীয় উগ্রবাদ, অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণকে কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবে উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চা বাড়াতে বাংলাদেশ ও ভারতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বৈঠকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। প্রাথমিকভাবে ভারত থেকে দুইজন ক্ল্যাসিক্যাল শিল্পীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাবও দেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের তরুণ প্রতিভাবানদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ, রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চালু করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর হবে। বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ গবেষণা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নেওয়ারও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মত দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আত্মার সম্পর্ক। খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মানুষের গভীর অভিন্নতা রয়েছে। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংগীত ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন দীনেশ ত্রিবেদী। ওই আয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার আগ্রহও জানান তিনি। একই সাথে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যৌথ অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ইয়াসমিন বেগম, ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার এবং ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন