সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ নিয়োগের উদ্যোগ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ নিয়োগের উদ্যোগ
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ঘোষিত পর্যায়ক্রমে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, জনবল সংকট মোকাবিলায় আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে।
এর মধ্যে ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ১৮৪ জন চিকিৎসক আগামী ৭ সেপ্টেম্বর কাজে যোগ দেবেন। তাদের মধ্যে ১৬৫ জন সহকারী সার্জন এবং ১৯ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য খাতের জনবলের ঘাটতি নিরূপণ ও নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গত ৩০ জুন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রশাসন-৩ (মনিটরিং ও সমন্বয়) শাখা থেকে মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মরত জনবল ও শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়। নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অধিদপ্তর, সংস্থা ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শূন্য পদগুলোর পদভিত্তিক তালিকা জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে অনুমোদিত মোট পদ রয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৪টি। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৪৫টি পদ শূন্য, যা মোট অনুমোদিত পদের ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ।
শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৪ জুলাইয়ের মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের আলোকে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠানে জনবলের ঘাটতি পূরণে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন গ্রহণ করা হলেও প্রক্রিয়া শেষ হয়নি, সেসব পদে নতুন করে শূন্য পদের ছাড়পত্র নিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগের আবেদনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত নিয়োগ শেষ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগসংক্রান্ত মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সারাদেশে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১ লাখ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ নারী হওয়ার কথা রয়েছে।
ইশতেহারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘স্বাস্থ্যসেবা’ অংশে স্বাস্থ্যকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির ভিত্তিতে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৭১৪টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এমআইএসের মানবসম্পদ তথ্যব্যবস্থা (এইচআরআইএস) অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে ২০ হাজার ৮১৬টি এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন এসব প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭১৪টি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসসকে বলেন, তৃণমূলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শূন্য পদ পূরণের কার্যক্রম অনেকটাই এগিয়েছে। প্রাথমিকভাবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে এবং ধাপে ধাপে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি জানান, জনবল নিয়োগের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। দ্রুতই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের ১ হাজার ৮৫৫টি পদে নিয়োগের জন্য আগে দেওয়া ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগের ছাড়পত্র ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই ছাড়পত্রের আওতায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে ১৭ ক্যাটাগরির ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে চার ক্যাটাগরির ১৮৮টি পদ রয়েছে। ফলে মোট ১ হাজার ৮৫৫টি পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান শূন্য পদে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)