Logo
×

Follow Us

জাতীয়

সাভারে পুলিশ সদস্য হত্যায় মব সহিংসতা নিয়ে প্রশ্ন

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২১ পিএম

সাভারে পুলিশ সদস্য হত্যায় মব সহিংসতা নিয়ে প্রশ্ন

নিহত আলতাফ হোসেন

ঢাকার সাভারে এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মব সহিংসতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিহত আলতাফ হোসেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সদস্য ছিলেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর ছেলে আরিফ।

ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, একটি প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন যুবক সাভারে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধর করছিলেন। বিষয়টি দেখে আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করলে ওই যুবকদের সাথে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে দৌড়ে পাশের নিজের একটি কারখানায় আশ্রয় নেন।

অভিযোগ রয়েছে, পরে ওই যুবকেরা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে সাথে নিয়ে কারখানাটিতে হামলা চালান। হামলাকারীরা কারখানার ভেতরে ঢুকে মেশিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। এ সময় আলতাফ ও তাঁর ছেলে আরিফকে মারধর করা হয়।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলে আরিফ বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর মব সহিংসতা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের একজন সদস্য পরিচয় দেওয়ার পরও যদি সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মব সহিংসতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার থাকার কথা উল্লেখ করে বক্তব্যে বলা হয়েছে, কোনো অভিযোগের বিচার সংঘবদ্ধ হামলা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মাধ্যমে হতে পারে না। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও বিচার রাষ্ট্রীয় আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দেশের যেকোনো স্থানে মব সহিংসতার ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন