ই-মিউটেশনে জমির শ্রেণি হালনাগাদের নির্দেশ
নামজারি প্রক্রিয়ার সময় জমির প্রকৃত শ্রেণি যাচাই করে তা সরকারি রেকর্ডে হালনাগাদের ব্যবস্থা ই-মিউটেশন সিস্টেমে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। জমির সঠিক মূল্য নির্ধারণ, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স অনুবিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা হলো জমির রেকর্ডীয় শ্রেণি সময়মতো হালনাগাদ না হওয়া। প্রাকৃতিক পরিবর্তন কিংবা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে জমির ব্যবহার ও শ্রেণি বদলে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তন সরকারি রেকর্ডে প্রতিফলিত হয় না।
এর ফলে ভূমি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে জমির প্রকৃত ও যথাযথ মূল্য নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেয়। একই সঙ্গে জমির সঠিক শ্রেণি অনুযায়ী সরকারি রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেকর্ড হালনাগাদের কার্যকর নিয়মিত ব্যবস্থা নেই। বিদ্যমান ই-মিউটেশন সফটওয়্যারেও নামজারি অনুমোদনের সময় জমির বাস্তব শ্রেণি যাচাই করে তা রেকর্ডে যুক্ত করার সুবিধা রাখা হয়নি।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো জমির মালিক নামজারির আবেদন করলে তা অনুমোদনের আগে জমিটির বাস্তব শ্রেণি যাচাই করতে হবে। যাচাইয়ের পর প্রকৃত শ্রেণি অনুযায়ী সেটিকে নামজারি খতিয়ানে রেকর্ডীয় শ্রেণি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, ই-মিউটেশন ব্যবস্থায় এই সুবিধা যুক্ত হলে জমির প্রকৃত ব্যবহার ও শ্রেণির তথ্য সরকারি রেকর্ডে আরও নির্ভুলভাবে সংরক্ষিত হবে। এর ফলে ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও আদায় প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে এবং জমির যথাযথ বাজারমূল্য নির্ধারণেও সুবিধা তৈরি হবে।
জমির শ্রেণি সঠিকভাবে রেকর্ডভুক্ত হওয়ার কারণে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার সম্ভাবনাও দেখছে ভূমি মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও তথ্যের নির্ভুলতা বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জারি করা চিঠিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষর করেছেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)