Logo
×

Follow Us

জাতীয়

শ্রমিকের মর্যাদা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে টেকসই উন্নয়ন: মাহদী আমিন

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

শ্রমিকের মর্যাদা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে টেকসই উন্নয়ন: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শ্রমজীবী মানুষকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করেই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত সম্মেলন ও সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘মর্যাদা, অধিকার, ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়’ শীর্ষক এ আয়োজন করা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকরা শুধু শ্রম দেন না, তাদের শ্রমেই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। তাই শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করা মানে দেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শ্রমিকের অধিকার। একইভাবে নিরাপদ কর্মপরিবেশও প্রত্যেক শ্রমিকের মৌলিক অধিকার।

তিনি বলেন, একজন শ্রমিকের কল্যাণ নিশ্চিত করার অর্থ একটি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দক্ষ শ্রমিক দেশের বড় উৎপাদনশীল সম্পদ। শ্রমিকের দক্ষতা যত বাড়বে, শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার শক্তিও তত বাড়বে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিকদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে আস্থা, পারস্পরিক নির্ভরতা ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শিল্পের টেকসই বিকাশে মালিক-শ্রমিককে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারের ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা বা ট্রাইপারটাইট কনসালটেশনের মাধ্যমে শিল্প খাতকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, মালিক-শ্রমিকের সম্পর্ক শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। নিয়মিত যোগাযোগ, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে আস্থা তৈরি হয় এবং আস্থার পরিবেশ উৎপাদনশীলতা বাড়ায়।

নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, কর্মসংস্থানের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি কাজের মান বা ‘ডিসেন্ট জব’ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকের সন্তানদের উন্নত শিক্ষা ও বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি করাও শ্রমিক কল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, নতুন শিল্প ও আধুনিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে আগামী প্রজন্মের শ্রমশক্তিকে প্রস্তুত করতে হবে। প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এতে দেশের শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও বাড়বে।

দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষ বারবার রাজপথে নেমেছেন। দেশের কল্যাণ, জনগণের অধিকার এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাদের সাহসী অবস্থান জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি জনশক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা গেলে দেশের শ্রমিকদের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে। নতুন শিল্প ও মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় শ্রমজীবী মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এমন একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে শ্রমিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং শিল্পের উন্নয়ন একই সঙ্গে এগিয়ে যাবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য নারী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষাও নিশ্চিত করা জরুরি।

শ্রমজীবী পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইতোমধ্যে শ্রমজীবী নারীদের কাছেও পৌঁছাতে শুরু করেছে। নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিলসের দীর্ঘ পথচলা ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার প্রশংসা করে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের অধিকার, স্বাধীনতা ও সুরক্ষায় সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। শ্রম অধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রম খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকার, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার, সুশীল সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। শ্রমিকের শক্তি, শিল্পের সক্ষমতা ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার সমন্বয়েই একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

সম্মেলন ও সাধারণ সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, জাপান ইন্টারন্যাশনাল লেবার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসুনোবু আইহারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর জ্যানা ভ্যান ডার লিনডেন, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার এবং বিলসের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ দেশি-বিদেশি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

মন্তব্য করুন