Logo
×

Follow Us

জাতীয়

লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: জহির উদ্দিন স্বপন

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: জহির উদ্দিন স্বপন

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদ কার্যকরভাবে কাজ করছে—এমন সময়ে আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দেওয়া সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার জন্য চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের ব্যবস্থা রয়েছে। এই সুযোগ কাজে না নিয়ে সংসদের বিতর্ক দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।

রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে ‘সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস’ (বিসিএআই)।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ। এতে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা বক্তব্য দেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর ও অর্থবহ রাখতে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের অন্যতম দায়িত্ব। তবে সংসদে কোনো বিষয়ে আলোচনা বা বিতর্কের পর তা অহেতুক দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে সচেতন মহলকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো কতটা উপলব্ধি থেকে এ ধরনের কর্মসূচি নিচ্ছে, তা বলা কঠিন। তবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি সবসময় অপেক্ষায় থাকে।

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, গত দুই দশকের ফ্যাসিবাদী চর্চা, ভঙ্গুর সামাজিক ব্যবস্থা এবং দেউলিয়া অর্থনীতির গভীর সংকট থেকে দেশকে বের করে এনে সরকার একটি নতুন ও সঠিক গতিপথ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। সংকটের গভীরতা বিবেচনায় রাতারাতি কোনো জাদুকরী পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা এবং ভুল নীতির কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই খাতগুলোতে এখন নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ না নেওয়াকে তিনি শুধু দুর্নীতি নয়, জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা বলেও মন্তব্য করেন।

বর্তমান সরকার সংকটের কথা বলে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে না উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা এবং দেশের নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চীন ও ভারতের বাইরে পণ্য আমদানির নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সংসদে আরও গঠনমূলক আলোচনা ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শুধু সরকারি দলকে বিপাকে ফেলার মানসিকতা নিয়ে সংসদীয় রাজনীতি পরিচালনা করা যায় না। কৃত্রিম বা গতানুগতিক সমালোচনার পরিবর্তে নির্দিষ্ট বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়া হলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজনের জন্য নাগরিক উদ্যোগটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের গঠনমূলক আলোচনা ও গবেষণা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, নীতিনির্ধারণ এবং জবাবদিহিতার চর্চাকে আরও কার্যকর ও সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

মন্তব্য করুন