ভারত-চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ভারত ও চীনের সাথে বাংলাদেশের বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেও তা কমাতে দেশভিত্তিক পদক্ষেপের চেয়ে সামগ্রিকভাবে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৬ আসনের বিরোধী দলীয় (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আব্দুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের দেশভিত্তিক বড় দু’টি ঘাটতি রয়েছে ভারত ও চীনের সঙ্গে। তবে বিষয়টি শুধু দেশভিত্তিকভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের ওভার-অল এক্সপোর্টেবিলিটি বাড়ানো দরকার, এক্সপোর্টের এবিলিটি বাড়ানো দরকার।
রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব খাতে আগামী দিনে রপ্তানি বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। নীতি সহায়তা ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব খাত এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, সেগুলোকে সক্ষম করে তোলার কাজ চলছে।
ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় এ ঘাটতি আরো বেড়েছে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং বাকি অংশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়।
তিনি বলেন, ভারতের আরো কয়েকটি খাতে রপ্তানি সক্ষমতা রয়েছে। তবে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকেও কিছু বাধা রয়েছে। একইভাবে গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতীয় একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সাথে যৌথভাবে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, সমন্বিতভাবে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা করছি, যাতে আগামী দিনে ভারতের ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি আরো বৃদ্ধি করা যায়।
বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, কোনো দেশ যখন আমদানি করে, সাধারণত সরকার নয়, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরাই তা করে থাকেন। ব্যবসায়ীরা অন্য উৎসের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেই আমদানির উৎস নির্বাচন করেন। ফলে ভারতের সাথে বাণিজ্য ব্যবধান বেশি হলেও আমদানিকারকরা নিজেদের ব্যবসায়িক সুবিধা বিবেচনা করেই ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে থাকেন।
এদিকে ই-কমার্স প্রতারণা রোধ ও গ্রাহকদের অর্থ সুরক্ষায় নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে কি না— বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৯-এর সদস্য সাবিকুন্নাহারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স ও ডিজিটাল ট্রেডের জন্য একটি ‘জাতীয় কর্তৃপক্ষ’ গঠনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, ই-কমার্স এবং ডিজিটাল ট্রেডের জন্য আমরা একটি ‘জাতীয় কর্তৃপক্ষ’ সৃষ্টির বিষয় বিবেচনা করছি। সেটা করা গেলে পুরো ই-কমার্স খাতকে আরো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের আওতায় আনা যাবে। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান বাণিজ্য মন্ত্রী।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)