Logo
×

Follow Us

জাতীয়

টেকসই যোগাযোগ অবকাঠামো গড়তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: সড়কমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

টেকসই যোগাযোগ অবকাঠামো গড়তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: সড়কমন্ত্রী

ছবি: পিআইডি

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামগ্রিক উন্নয়নকে আরো গতিশীল করতে উন্নত, নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সাথে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আল জাসেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, চলমান প্রকল্প, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন সহযোগিতার সম্ভাব্য বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়ে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সড়কমন্ত্রী বলেন, সড়ক, রেল ও নৌপথের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণেও সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ও সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, জনগণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ, যানজট নিরসন, পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোর আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন শুধু যাতায়াত সহজ করার বিষয় নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। এ কারণে সরকার যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের পরিবহন খাতকে আরো কার্যকর ও জনবান্ধব করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এক্ষেত্রে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়ন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের সাথে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ উন্নয়ন অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে ভবিষ্যতে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত হবে। 

সাক্ষাৎকালে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আল জাসের বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এবং অবকাঠামো খাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে উন্নত, দক্ষ ও কার্যকর যোগাযোগ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ড. মোহাম্মদ আল জাসের বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক একটি নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে থাকতে চায়। সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন খাতের সমন্বিত এবং টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে আধুনিক ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক ইতিবাচকভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নকে আরো এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত পোষণ করে। সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন খাতের সম্ভাব্য উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকের ফলাফল নিয়ে উভয়পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশ ও ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে বিদ্যমান উন্নয়ন অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সাক্ষাৎকালে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন