Logo
×

Follow Us

জাতীয়

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্নভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে উসকানি দেওয়ার অপচেষ্টা মোকাবিলায় দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা পাঠ করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে কেউ কেউ মানুষকে বিভ্রান্ত ও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব নাগরিকের দেশ এবং রাষ্ট্রে প্রত্যেকের অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবনযাপন করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। বিএনপি ও সরকার ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে বিশ্বাস করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব পালনের ক্ষেত্রে সবার নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আসন্ন দুর্গাপূজার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জন্মাষ্টমীর পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব উৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও স্বস্তিপূর্ণ পরিবেশে পালনের প্রত্যাশা জানান এবং আগাম দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের বার্তা নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এর তুলনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর গণতন্ত্রকামী জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারী শক্তির পতন ঘটিয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, দেশে আবার গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করে দেশ পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সহাবস্থানই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘সংখ্যালঘু নয়, আমরা বাংলাদেশী’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের যেকোনো দেশে গেলে মানুষ তার জাতীয় পরিচয় দিয়েই পরিচিত হয়। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক হিসেবে পরিচয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবাইকে নিজেদের বাংলাদেশী হিসেবে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দল, মত, ধর্ম, বর্ণ বা অন্য কোনো পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর রাজনৈতিক দর্শন সামনে এনেছিলেন। সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয়—আমরা বাংলাদেশী।

দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ে সময়ে কিছু মানুষ বিভেদ-বিরোধ উসকে দিয়ে এই সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করেছে। সমাজবিরোধী শক্তি যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

 কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়

তারেক রহমান বলেন, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। এ লক্ষ্যেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতাসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাষ্ট্র, সরকার ও নাগরিকের পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা ও আলোচনার ভিত্তিতেই কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের সঞ্চালনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উপদেষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নেতারা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি মন্দিরের নয়জন পুরোহিত ও সেবায়েতের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করেন। একই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকার পুরোহিত ও সেবায়েতদের ব্যাংক হিসাবে এফটিএর মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হয়।

মন্তব্য করুন