Logo
×

Follow Us

জাতীয়

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

সংগৃহীত ছবি

নেপালে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্ধারিত দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানো হলেও বর্তমানে এর পরিমাণ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্প দুটি হলো ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। বন্যার পর থেকেই দুই প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানান, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুই প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে ভারতের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যই থাকছে।

বর্ষা মৌসুমে নেপালের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়ায় দেশটির জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সাধারণত বেড়ে যায়। গত কয়েক বছর বর্ষাকালে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করলেও এবারের বন্যায় দেশটির উৎপাদন কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।

২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য এনইএ, ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে।

এরপর ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও নেপাল নীতিগতভাবে একমত হয়। তবে ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমোদন এখনো মেলেনি।

কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, চিলিমে প্রকল্প থেকে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতে বিক্রির অনুমোদন ছিল। একই সঙ্গে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্যও প্রকল্প দুটি অনুমোদিত ছিল।

ভোতেকোশি নদীর বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুই প্রকল্পের পাশাপাশি নেপালের আরও কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পর দেশটির মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

বন্যার প্রভাব পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্যেও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতে ২ হাজার ৯৩২ কোটি নেপালি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল দেশটি। একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপির বিদ্যুৎ আমদানি করা হলেও নিট বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে কাজ করছে এনইএ। পাশাপাশি সচল অন্য কোনো বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমোদন পেতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পাশাপাশি ভূমিধস হয়। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রবল স্রোতের সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়। পরে বন্যার পানি ত্রিশূলী নদীতেও প্রবাহিত হয়।

বন্যার তীব্র স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। ‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জনে পৌঁছেছে এবং এখনো ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

মন্তব্য করুন