Logo
×

Follow Us

জাতীয়

সংসদ ভবনে বৃষ্টির পানি, ঝুঁকিতে ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ এএম

সংসদ ভবনে বৃষ্টির পানি, ঝুঁকিতে ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

সংসদ

সামান্য বৃষ্টিতেই জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। মূল ভবনের পাশাপাশি দক্ষিণ প্লাজা, ভিআইপি বাংলো, মন্ত্রী হোস্টেল, পুরাতন সংসদ সদস্যদের হোস্টেল ও সচিব হোস্টেলেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ছাদ থেকে নামা পানিতে সংসদ ভবনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণ প্লাজার নিচে থাকা মেইন মেকানিক্যাল প্ল্যান্ট (এমএমপি)। এখানে সংসদ ভবনের কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জিআইএস প্যানেল, ছয়টি জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন ও সেন্ট্রাল স্টোর রুম রয়েছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের এসব যন্ত্রপাতির ওপর বৃষ্টির পানি পড়ায় শর্টসার্কিটসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি সাময়িকভাবে সামাল দিতে দক্ষিণ প্লাজার নিচে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ওপর টিনের অস্থায়ী ছাউনি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ ভবনের যেসব স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করছে, সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্লাস ব্রিকসের জয়েন্ট মেরামতের পাশাপাশি বিভিন্ন ভবনের ছাদও পানি প্রতিরোধী করার কাজ চলছে।

তবে অস্থায়ী এসব ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খ্যাতনামা স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন অংশ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সংসদ ভবনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সদ্য শেষ হওয়া বাজেট অধিবেশনে সংসদ ভবনে বৃষ্টির পানি পড়ার বিষয়টি সামনে আনেন সরকারি দলের হুইপ জিকে গউছ। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, মসজিদের সামনে বৃষ্টির পানি ঠেকাতে সারিবদ্ধভাবে বালতি রাখতে হচ্ছে। অথচ একই অধিবেশনে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। সংসদ ভবনের ভেতরে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও সংসদ ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিজের কক্ষেও ঘুমাতে গেলে ছাদ থেকে পানি পড়ার কারণে বালতি রাখতে হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে ডেপুটি স্পিকার সংসদে উপস্থিত গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মন্ত্রী সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত এর প্রতিকার হবে বলে আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, সংসদ ভবনের যেসব স্থান দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করছে, সেগুলো মেরামতের কাজ শুরু করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে কাজের গতি ধীর হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

মন্তব্য করুন