ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে মিলবে প্রণোদনা, গ্রিডে ইউনিটপ্রতি ১০.৫০ টাকা
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিশেষ প্রণোদনা চালু করেছে সরকার। এ ব্যবস্থায় ছাদে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন গ্রাহক।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন এ প্রণোদনা ব্যবস্থা ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমান বাজারদর ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিশ্লেষণ করে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে নির্ধারিত উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে কোনো গ্রাহক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তাঁর লাভ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তাঁরা এ বিশেষ প্রণোদনার সুবিধা পাবেন।
এ সুবিধা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহকরা পরবর্তী তিন বছর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রণোদনা পাবেন।
বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের তথ্য এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ সংরক্ষণ করবে। প্রণোদনাসহ বিদ্যুতের মূল্য প্রতি তিন মাস পরপর গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হবে। এ অর্থ কোনোভাবেই নগদে দেওয়া হবে না।
তবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর স্থাপিত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা কার্যকর হবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (স্রেডা) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে পাওয়া যাবে।
সরকারের আশা, এই প্রণোদনার ফলে দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়বে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি এবং টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)