ভিসা বন্ড সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
ভিসা বন্ড সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান
বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করতে বর্তমানে চালু ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও আরও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার সকালে বঙ্গভবনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। একই সাথে কৃষিতে মার্কিন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।
দেশের জ্বালানি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের বিনিয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি এ খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। রাষ্ট্রপতি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাসী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিত ‘Agreement on Reciprocal Trade’-এর প্রসঙ্গও বৈঠকে উঠে আসে। রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে তাঁর দেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সচিব এবং বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)