Logo
×

Follow Us

জাতীয়

বাংলাদেশ-ভারত সংসদীয় ফ্রেন্ডশিপ গঠনের প্রস্তাব দীনেশ ত্রিবেদীর

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

বাংলাদেশ-ভারত সংসদীয় ফ্রেন্ডশিপ গঠনের প্রস্তাব দীনেশ ত্রিবেদীর

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের নিয়ে একটি ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

বুধবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ প্রস্তাবের কথা জানান তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দলীয় রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যরা একটি বন্ধুত্ব গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় করতে পারেন। এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি ‘পিপল-টু-পিপল’ যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে।

জাতীয় সংসদ ভবনকে ‘টেম্পল অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এখানে এসে তিনি আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছেন। তাঁর মতে, সংসদে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে এবং গণতান্ত্রিক দেশগুলোর জনগণ সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে।

জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্য ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ভবনটির সৌন্দর্য এবং চারপাশের জলাধার ও পরিবেশ তাঁকে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘Where the Mind is Without Fear and the Head is Held High’ ভাবনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সংসদ সদস্যরা কীভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারেন, বৈঠকে সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সকালে তাঁর কথা হয়েছে জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের স্পিকারের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ সফরে তাঁরা ভারতের সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন বলেও জানান তিনি।

প্রস্তাবিত ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে সংসদ হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান। তাই দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সংসদ সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।

দুই দেশের সংসদের মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগকে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ নেবে।

সংসদীয় কার্যক্রম ডিজিটাইজেশনের বিষয়েও কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি জানান, ভারতের সংসদের লাইব্রেরিসহ বিপুল পরিমাণ সংসদীয় তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে সংসদ সদস্যরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় নথি, অধিবেশনের কার্যসূচি এবং আগের বক্তব্য সহজেই দেখতে পারেন। নির্দিষ্ট তারিখ, বিষয় বা ব্যক্তির বক্তব্যও দ্রুত খুঁজে বের করার সুবিধা রয়েছে।

গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো শেষ নেই মন্তব্য করে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনা একটি প্রবাহমান নদীর মতো, যা সব সময় চলমান থাকে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর এখতিয়ারের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বুদ্ধিমান ও জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের উদ্দেশ্য জনকল্যাণমুখী হলে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভারতের হাইকমিশনার।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সংসদীয় সম্পর্ক, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্তব্য করুন