প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
গ্যাসের সংকট নিরসনে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার সকালে রাজধানীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের কাছে বিএনপি মহানগর উত্তর আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রিজভী। এ সময় তিনি একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন।
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে রিজভী বলেন, মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা এখন ঠিক হয়ে এসেছে। টার্মিনালে গ্যাস পুনর্ভরণ সম্পন্ন হলে এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাসাবাড়িতে চুলায় যে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে, তা কেটে যাবে। পাশাপাশি মিল-কারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে। জনগণের দুর্ভোগ কমানো সরকারের অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার বসে নেই দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দ্রুত এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি কেনার জন্য সরকার অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। বাজেটে জ্বালানি খাতে নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমান গ্যাস সংকট সরকারের কোনো ত্রুটির কারণে হয়নি দাবি করে রিজভী বলেন, এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ ও কার্গো চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের কারণে ওই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্যাসের এই সংকট বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার যোগাযোগ ও উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হলে সংকটের কারণ এবং এর সমাধান নিয়ে কথা বলতে হবে। তবে সরকারকে চাপে ফেলা বা রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে আন্দোলন করা হলে সেটি ভিন্ন বিষয়।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিএনপির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে গাছ লাগাতে হবে। একই সঙ্গে দেশের জলাভূমি, নদী, নালা ও খাল পুনঃখনন করে সেগুলো দূষণমুক্ত রাখতে হবে। শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ও অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থের কারণে পানিদূষণ বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এই কর্মসূচিতে দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার্থী ও শিশুদেরও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রতিটি শিশুকে নিজ বাড়ির আঙিনায় অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, মহানগর উত্তর বিএনপির নেতা মোস্তফা জামানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)