নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: রুমন
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ওই সময়ের নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনও প্রধানমন্ত্রী বহন করছেন।
বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
রুমন বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস। তাঁকে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। সেই নির্যাতনের চিহ্ন এখনও তাঁর শরীরে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে তারেক রহমান অতীতের সেই দুঃসহ দিনগুলো মনে রাখতে চান না উল্লেখ করে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি শুরু করলে তা শেষ হতে অনেক সময় লাগবে। এতে জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে, সেই লক্ষ্য পূরণ বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, অতীতের তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে চান প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদেরও একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, বিএনপি যখন বিভিন্ন সময়ে দেশ পরিচালনা করেছে, তখন তারেক রহমানকে হেয় করতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র হয়েছে। ভবিষ্যতেও যাতে এ ধরনের ষড়যন্ত্রের কারণে তাঁর ইতিবাচক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ করে ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রীর ভালো উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান রুমন।
তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ সত্যের প্রমাণ দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে এরশাদের স্বৈরশাসন ও ওয়ান-ইলেভেনের সরকারকে হটানোর ক্ষেত্রেও জনগণ ভূমিকা রেখেছে। সর্বশেষ জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯তম কারামুক্তি দিবসের প্রসঙ্গ তুলে রুমন বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে বিএনপি এ দিনটি পালন করে আসছে। তবে অতীতের পরিস্থিতি ও বর্তমান সময়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। আগের সময়ে দিবসটি পালন করতে গিয়ে নেতাকর্মীদের স্বৈরাচারী চাপ, কারাবরণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে।
তিনি বলেন, সেই কঠিন সময়েও নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে পিছিয়ে যাননি। রুহুল কবির রিজভী, ইকবাল হাসান মাহমুদ, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ও ব্যারিস্টার মীর হেলালসহ অনেকে তখন দিবসটি পালনে সহযোগিতা করেছেন।
সেই সময় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রুমন বলেন, অনুষ্ঠানস্থল ও সময় সম্পর্কে প্রশাসনকে না জানিয়ে বিশ্বস্ত নেতাকর্মীদের গোপনে খবর দেওয়া হতো। সাংবাদিকদেরও অনুষ্ঠানের মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে জানানো হতো।
সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সে সময় অনেক সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানগুলোর খবর প্রচার হয়েছে, নেতাকর্মীরা উৎসাহ পেয়েছেন এবং কর্মসূচিগুলো সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।
আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ উত্তরাঞ্চলের ছাত্রনেতা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)