মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানে জাতীয় স্বার্থ দেখবে সরকার
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত করার কোনো প্রস্তাব এলে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে যেকোনো বহুপাক্ষিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আগে এর মাধ্যমে দেশের মানুষের কী উপকার হবে, তা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফররত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব আন্দা ফিলিপের সঙ্গে বৈঠক করেন শামা ওবায়েদ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ পায়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব এলে তা বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রস্তাব গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হবে এবং জনগণ কীভাবে উপকৃত হবে, সেটিই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচনা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির আলোকে বহুপাক্ষিক কোনো উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজনীয় সময় নেওয়া হবে এবং সব দিক বিবেচনার পরই বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হবে।
আইপিইউ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বিশ্বের ৯৩টি দেশের সংসদ নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থা আইপিইউর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বাংলাদেশ। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আইপিইউ মহাসচিব সরাসরি ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
শামা ওবায়েদ জানান, সফরকালে আন্দা ফিলিপ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেছেন। এর আগে তিনি জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশ আবার সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে এবং বর্তমানে সংসদীয় কার্যক্রম সচল রয়েছে—আইপিইউ মহাসচিব বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষ করে বর্তমান সংসদে নতুন ও তুলনামূলক তরুণ সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতাদের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। সংসদ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে আইপিইউর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, জেনেভাসহ বিভিন্ন স্থানে আইপিইউর আয়োজিত কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংসদীয় কার্যক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনপ্রণেতাদের সম্পৃক্ততা বাড়লে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে আইপিইউর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইপিইউ শুধু গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করে না; মানবাধিকার, শান্তি ও স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), নারী ক্ষমতায়ন এবং জেন্ডার সমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সংস্থাটি কাজ করে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব ক্ষেত্রে আইপিইউর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
শামা ওবায়েদ জানান, আগামী মাসে তানজানিয়ায় আইপিইউর একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশের স্পিকারসহ সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সম্মেলনসহ আইপিইউর বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা আরও গভীর করতে সরকার আগ্রহী। আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থাটির সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)