Logo
×

Follow Us

জাতীয়

বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্র এসেছে বিএনপির হাত ধরে: প্রধানমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্র এসেছে বিএনপির হাত ধরে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: পিএমও

বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব।

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি জানান।

সাক্ষাৎকালে আন্দা ফিলিপ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে তারা আনন্দিত। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুগম করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। সামনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও গণতন্ত্রের প্রতি সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণ এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বৈঠকে আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করেছেন। এতে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রগতির প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়াতেও আইপিইউ আগ্রহী বলে জানান তিনি।

তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। তাঁর অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইপিইউ ও বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আন্দা ফিলিপ।

গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন আইপিইউ সেক্রেটারি। পাশাপাশি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাঁদের উদ্যম ও আগ্রহের প্রশংসা করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি এবং অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন