বাংলাদেশের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: সারাহ আলড্রিচ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে।
গত ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সারাহ আলড্রিচ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আন্দোলন-পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা মোকাবিলা করে অন্তর্বর্তী সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করেছে।
মার্কিন এই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ইতোমধ্যে আরও শক্তিশালী হয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর করার আগ্রহ রয়েছে ওয়াশিংটনের। একই সাথে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে কৃষি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে সারাহ আলড্রিচ বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থেকে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছে, তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্মরণসভার শুরুতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। গণতান্ত্রিক ধারায় বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন, রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোয় পরিবর্তন এবং বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়। এতে আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ, ভূমিকা ও আত্মত্যাগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
স্মরণসভায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)