Logo
×

Follow Us

জাতীয়

একসাথে বাস্তবায়ন হবে নবম-দশম ওয়েজ বোর্ড

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

একসাথে বাস্তবায়ন হবে নবম-দশম ওয়েজ বোর্ড

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসাথে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টির সাথে সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

বেসরকারি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়টি বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের পর নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং একই সাথে দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সাংবাদিকরা। জবাবে উপদেষ্টা নীতিগতভাবে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে হবে।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা না গেলে মানসম্মত সাংবাদিকতা পাওয়া কঠিন। এ কারণে সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে নতুন বেতন কাঠামো ও মূল্যস্ফীতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর মতে, দেশে মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা সহনীয় পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের আয় বাড়লে মূল্যস্ফীতির কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বেতন কাঠামোয় সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, দীর্ঘদিন নতুন বেতন স্কেল না হওয়ায় নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে অনেক সরকারি কর্মচারীর বর্তমান বেতন ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত নতুন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর সবার বেতন একই হারে বাড়বে না।

নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টি দেখে সবার বেতন দ্বিগুণ হওয়ার ধারণা তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ অনেক কর্মচারী নিয়মিত বেতন বৃদ্ধির কারণে নতুন স্কেলের কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তার হাতে থাকা বিভিন্ন নীতিগত উপকরণ ব্যবহার করে মূল্যস্ফীতির কারণগুলো মোকাবিলায় কাজ করবে। পাশাপাশি সরকারও প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেবে।

মূল্যস্ফীতির কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বছরের শেষ নাগাদ ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে এবং উপকারভোগীদের একটি নির্ভুল তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

গড়ে একটি পরিবারে পাঁচজন সদস্য ধরে ৪০ লাখ পরিবারে প্রায় দুই কোটি মানুষ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পেতে পারেন বলে জানান উপদেষ্টা। তাঁর মতে, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই দুই কোটি মানুষের কাছে প্রতি মাসে সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, ওএমএস এবং টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে এসব কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করুন