Logo
×

Follow Us

জাতীয়

৩৪ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ হালনাগাদ করা হচ্ছে : মহাপরিচালক

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

৩৪ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ হালনাগাদ করা হচ্ছে : মহাপরিচালক

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর।

দেশের ভূমি জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ৬ জেলার ৩৪ উপজেলায় পাইলট ভিত্তিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপ ও ভূমি রেকর্ড হালনাগাদের কাজ শুরু হয়েছে। সফলভাবে পাইলট কার্যক্রম শেষ হলে পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানান। মহাপরিচালক বলেন, ভূমি সেবায় মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করা হলে ভূমি সংক্রান্ত তথ্য আরও নির্ভুল, নিরাপদ ও সহজে পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় সব মানুষ কোনো না কোনোভাবে ভূমির সাথে সম্পৃক্ত। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি সংস্থা—সবারই ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। তাই এ খাতে সেবা নিতে গিয়ে মানুষের ভোগান্তির সুযোগও বেশি। এই দুর্ভোগ কমানোই ভূমি ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে জানিয়ে আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর বলেন, এর ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে ডিজিটাল জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

বর্তমানে ভূমি জরিপে আগের তুলনায় অনেক আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ২০০২-০৩ সালের দিকে যেসব যন্ত্রপাতি দিয়ে জরিপ পরিচালনা করা হতো, সেগুলোর পরিবর্তে এখন আরও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

৬ জেলার ৩৪ উপজেলায় চলমান পাইলট প্রকল্পের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, সীমিত পরিসরে নতুন পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। এ পর্যায়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, কাজের গতি, নির্ভুলতা এবং সম্ভাব্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়নের পর দেশব্যাপী এ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 জনবল সংকট কাটাতে নিয়োগ

ভূমি জরিপ দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে জনবল সংকটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহাপরিচালক। তিনি বলেন, অনুমোদিত পদের তুলনায় অধিদপ্তরে কর্মরত জনবল অনেক কম। তবে গত দুই বছরে এ ঘাটতি পূরণে প্রায় ২ হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসে আরও প্রায় ৫০০ জন নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

জনবল স্বল্পতার কারণে জরিপ কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় জরিপের কিছু কাজ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মহাপরিচালকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের আগে ভূমি জরিপের প্রাথমিক মাঠপর্যায়ের কিছু কাজ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে করা হতো। সে সময় সরদার আমিন, বদর আমিনসহ মৌসুমি ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কাজে লাগানো হতো। ২০১২ সালের পর এ ধরনের ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে বড় পরিসরের জরিপকাজ দ্রুত শেষ করতে আবারও নির্দিষ্ট কিছু কাজ আউটসোর্সিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, এর উদ্দেশ্য অধিদপ্তরের দায়িত্ব কমানো নয়; বরং বিদ্যমান জনবল ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে কাজের গতি বাড়ানো।

 কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে ভূমি রেকর্ড

ভূমি জরিপের তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণ করতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। মহাপরিচালক জানান, অতীতে ভূমি সংক্রান্ত রেকর্ড বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সংরক্ষিত থাকত। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কালেক্টরেট, জেলা জজের কার্যালয় ও তহশিল অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসব নথি রাখা হতো।

বর্তমানে নতুন জরিপের রেকর্ড অধিদপ্তরের নিজস্ব ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে বা বিডিএসের রেকর্ড কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে রাখার কাজ শুরু হয়েছে। গত দুই বছর ধরে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কেন্দ্রীয়ভাবে রেকর্ড সংরক্ষণ করা হলে কোনো জেলা বা উপজেলায় প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া না গেলেও অধিদপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট তথ্য বা রেকর্ডের কপি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও তথ্যের নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি পুরোনো নথি হারানো বা নষ্ট হওয়া এবং রেকর্ড খুঁজতে দীর্ঘ সময় লাগার সমস্যাও কমবে।

তবে সিএস, এসএ, আরএস ও বিএসসহ বিভিন্ন সময়ের পুরোনো জরিপের রেকর্ড একসাথে ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা বড় ধরনের কাজ বলে উল্লেখ করেন মহাপরিচালক। এসব নথির ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ডিজিটাল ব্যবস্থায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

নতুন জরিপ পরিচালনার সময় আগের জরিপের রেকর্ডকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরোনো তথ্যের ধারাবাহিকতা সংরক্ষণ না করে কার্যকর নতুন জরিপ পরিচালনা সম্ভব নয়।

আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর বলেন, ডিজিটাল জরিপ, ভূমি রেকর্ড হালনাগাদ, কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ এবং দক্ষ জনবল—সবগুলো উদ্যোগ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিশ্চিত করা গেলে ভূমি সেবাকে আরও দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য করা সম্ভব হবে।

পাইলট প্রকল্পের সফলতা এবং পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর ফলে ভূমি মালিকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে।

মন্তব্য করুন